এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে আবারও তোড়জোড় শুরু হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহে অথবা চলতি মাসের শেষ দিকে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে নতুন পে স্কেল ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এর আর্থিক প্রভাব। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর ফলে সরকারের ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। সংস্থাটি পে স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বলেও জানা গেছে।
নবম পে স্কেল নিয়ে বড় সুখবর
সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী
তবে সরকার পুরোপুরি বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে দেশের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথ খুঁজছে। প্রয়োজনে ধাপে ধাপে পে স্কেল কার্যকর করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
বেতন বাড়ানোর বড় সুপারিশ
২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা হয়নি। এ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীরা নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট পেলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে নতুন পে স্কেলের দাবি ক্রমেই জোরালো হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বিশেষ কমিটির পর্যালোচনা
পরে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল নবম পে স্কেলের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের হিসাবে, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে। অতিরিক্ত এই ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর প্রয়োজন হবে।
এদিকে নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে প্রত্যাশাও বাড়ছে। মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি কবে উপস্থাপন করা হবে, অনুমোদনের পর কখন প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং শেষ পর্যন্ত কোন কাঠামোয় নতুন বেতন কার্যকর হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে এখন মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।